Academy

আশরাফ সাহেব ব্যবসা করতে বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকার একটি দেশে যান এবং সেখানে একটি কোম্পানি গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের আরেক ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দীনও ঐ দেশটিতে পৃথক একটি কোম্পানি গঠন করেন। কিন্তু সাহাবুদ্দীন ঐ দেশটির শাসকের দরবারে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হন। পরে তিনি আশরাফ সাহেবের সাথে যুক্ত হয়ে একটি যৌথ কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। সেই সময় এই কোম্পানি আফ্রিকার দেশটির শাসকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং বিনাশুল্কে বাণিজ্যিক সনদ লাভ করে।

উক্ত দেশটির উদারতা আশরাফ ও সাহাবুদ্দীন সাহেবদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও রাষ্ট্রবিরোধী আচরণে উৎসাহিত করতে পারে- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 1 year ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
Ans :

উদ্দীপকের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের গঠিত বাণিজ্য কোম্পানির প্রতি আফ্রিকার দেশটির শাসকরা উদারতা দেখিয়েছেন। তবে এর সুযোগে ওই কোম্পানির প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট দেশটিতে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে আগ্রহী হতে পারে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকের এ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দিয়ে ভারতে বাণিজ্য করতে আসা চতুর ব্রিটিশ বণিকদের কার্যকলাপের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইংরেজ বণিকদের গঠিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্যেই এসেছিল। পরে ভারতীয় শাসকদের উদারতা ও দুর্বলতার সুযোগে তারা উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠে চূড়ান্ত পর্যায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে বসে।
ইংরেজদের প্রতি দিল্লি ও বাংলার আঞ্চলিক শাসকরা উদার ছিলেন। তাদের উদারতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজ ব্যবসায়ীরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও
ফরমানবলে সুরাটে ইংরেজদের বাণিজ্যকুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন। মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারও ইংরেজদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি জন সুরম্যান বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা
রাষ্ট্রবিরোধী কাজকর্মে লিপ্ত হয়। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এক লাভের জন্য মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারের দরবারে হাজির হন। এ সময় সম্রাট অসুস্থ ছিলেন। ইংরেজ চিকিৎসক হ্যামিলটনের চিকিৎসায় সম্রাট ফররুখশিয়ার সুস্থ হন। এতে তিনি ইংরেজদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের বাংলা, বিহার, মাদ্রাজ এবং বোম্বাইয়ে বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার সনদ প্রদান করেন। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ইংরেজদের অনেক অন্যায়-আচরণ ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অবহিত হওয়ার পরও সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এ সব কারণে ইংরেজরা ধীরে ধীরে বাংলা তথা গোটা ভারতে নিজেদের শক্তি বাড়ায় এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায়ই তারা ষড়যন্ত্র করে প্রহসনমূলক পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়।
পরিশেষে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বলা যায়, আফ্রিকার দেশটির শাসকদের উদারতা উচ্চাভিলাষী ইংরেজ বণিকদের মতোই আশরাফ ও সাহাবুদ্দীন সাহেবদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও রাষ্ট্রবিরোধী আচরণে উৎসাহিত করতে পারে

10 months ago

ইতিহাস

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

নবাবের আদেশ অমান্য করে দুর্গ নির্মাণ করা ও মসনদে বসার পর তাকে প্রথামত সম্মান না জানানোয় ইংরেজদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা।
সিরাজ-উদ-দৌলা ক্ষমতায় বসার সময় ইংরেজরা কলকাতায় এবং ফরাসিরা চন্দননগরে দুর্গ নির্মাণ করছিল। ব্যবসায়ীদের দুর্গের দরকার নেই এবং নবাবের বাহিনী নিরাপত্তা দেবে এ কথা বলে নবাব তাদের দুর্গ নির্মাণের কাজ বন্ধের আদেশ দেন। এ আদেশ ফরাসিরা মানলেও ইংরেজরা অমান্য করে। তাছাড়া নতুন নবাব হিসেবে মসনদে বসার পর ইংরেজরা সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রথামত সম্মান জানায়নি। এজন্য নবাব তাদের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।

উদ্দীপকে বর্ণিত আফ্রিকার দেশটিতে পাঠ্যপুস্তকের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসার প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের (Elizabeth I of England) কাছ থেকে সনদ নিয়ে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে বাণিজ্য করতে আসে। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের এক ফরমানবলে ইংরেজ বণিকরা সুরাটে (বর্তমান গুজরাটে) বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের অনুমতি পায়। তারা ক্রমে উড়িষ্যার হরিহরপুর, বালাসোর, বিহারের পাটনা এবং পশ্চিমবঙ্গের কাশিমবাজারে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাৎসরিক ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সুতানটি এবং গোবিন্দপুর নামের তিনটি গ্রামের জমিদারি লাভ করে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে ১৬৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্যার উইলিয়াম নরিসের নেতৃত্বে অপর একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়। উইলিয়াম নরিসের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। কিন্তু উইলিয়াম নরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হন। পরে ইংল্যান্ডের মন্ত্রিসভার চাপে নতুন ও পুরাতন কোম্পানি দুটি একত্রিত করে একটি যৌথ কোম্পানি গঠন করা হয়। এ নতুন কোম্পানি 'The Urfited Company of Merchants of England Trading to the East India' নামে পরিচিতি লাভ করে। এ যৌথ কোম্পানি ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উপমহাদেশে একচেটিয়া বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করে।

ইংরেজদের ব্যবসায় সম্প্রসারণসহ আধিপত্য বিস্তারের পথ সুগম হওয়ার কারণে সম্রাট ফররুখশিয়ারের ফরমান ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।
ভারতবর্ষে ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ১৭১৫ সালে ইংরেজ দূত জন সুরমান সম্রাট ফররুখশিয়ারের দরবারে হাজির হন। তিনি সম্রাটের চিকিৎসা করে তাকে কঠিন রোগ থেকে মুক্ত করেন। ফররুখশিয়ার এতে খুশি হয়ে ফরমান জারি করে সব সুবাদারকে ইংরেজদের সব ধরনের  বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার আদেশ দেন। সম্রাট ফররুখশিয়ারের এ ফরমান জারির কারণে ইংরেজদের আধিপত্য আরও বেড়ে যায়, যা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।

উদ্দীপকের সম্রাট হুমায়ুনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার সাথে বাংলার নবাবি শাসনামলের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মিল রয়েছে।
ইংরেজ ঐতিহাসিক এস.সি.লি বলেছেন, সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের জন্য তিনি নিজেই দায়ী। তরুণ, অনভিজ্ঞ নবাবের প্রধান দুর্বলতা ছিল, তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে দৃঢ় ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারতেন না। উপস্থিত জটিল পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা প্রদর্শনের পরিবর্তে দিশেহারা হয়ে পড়তেন। তাছাড়া সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে জেনেও তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পদে বহাল রাখেন। মূলত নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও সমরকুশলতার অভাব তার পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল।
উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে, মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার প্রচণ্ড অভাব ছিল। সাম্রাজ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে সম্রাট হুমায়ুন সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। দয়াপ্রবণ হওয়ার কারণে হুমায়ুন দণ্ড পাওয়ার যোগ্য অপরাধীকেও ক্ষমা করে দিতেন। এ সব কারণে তার ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হুমায়ুনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার সাথে বাংলার নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার অদূরদর্শিতার মিল রয়েছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...